Homeখবরহজম শক্তি বাড়ানোর পাঁচটি প্রকৃতিক উপায়

হজম শক্তি বাড়ানোর পাঁচটি প্রকৃতিক উপায়

হজম শক্তি কে কি আমরা শক্তিশালী করতে পারি? এ প্রশ্নের উত্তরে, পুষ্টিবিদ্যা বলছেন, হজম শক্তি বাড়ানো একটু জটিল। কারণ সব ধরনের মানুষের হজমশক্তি একরকম হয় না। একই ধরনের খাবার অনেকে হজম করতে পারে, আবার অনেকে হজম করতে পারে না।

হজম শক্তি কিভাবে বাড়ানো যায়, সেটি জানার আগে প্রশ্ন আসে। হজম শক্তি কি? কেন হজম শক্তি বাড়াতে হবে? কেন এটি আমাদের শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে সুস্বাস্থ্যের জন্য  হজম শক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি বাধাগ্রস্ত হলে বা কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে। পুরো দেহই স্থগিত হতে পারে।

এ বিষয়ে প্রতিবেদন শারমিন আক্তার বলেন,শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন না হলে তা পুরো দেহ কে প্রভাবিত করে। এর ফলে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে,

ক) ওজন বেড়ে যেতে পারে

খ) লিপিড প্রোফাইল, ইক্যুইড অ্যাসিড কিনবা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

গ) এছাড়া অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

পুষ্টিবিদ ডাক্তার তাসলিম হাসান পাপিয়া বলেন, হজম প্রক্রিয়ার তিনটি ধাপ থাকে।

ক) খাবার খাওয়া।

খ) সেটা পরিপূর্ণভাবে হজম হওয়া।

গ) হজমের পর সেটা দেহে শোষিত হওয়া।

এই তিনটি ধাপ বিদ্যার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে আজান সম্পর্কিত সমস্যা বলতে শুধু গ্যাসের সমস্যা, ডায়রিয়া, কিংবা শুধু কোষ্ঠকাঠিন্যেকে বোঝায় না।

বরং হজম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধি, স্থূলতা বৃদ্ধির মত সমস্যা হতে পারে। এছাড়া অনেক সময় দেখা যায় যে, খাবার খেলেও, শেষ পর্যন্ত শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি পাচ্ছে না।

এক, এক মানুষের মেকানিজম বা হজম শক্তি এক, এক রকম হয়। অনেক সময় দেখা যায় যে একই রকমের খাবার খেয়েও একজন মোটা হয় কিন্তু আরেকজন হয়না।

যারা হোস্টেলে থাকে তাঁদের কেটে ধরনের সমস্যা দেখা যায় বলে জানান পুষ্টিবিদরা।

হজম শক্তি বাড়ানোর পাঁচটি প্রকৃতিক উপায়

(ক) কোন কোন খাবার খেলে আপনার সমস্যা হয় সেটা পর্যবেক্ষণ করুন:-

পুষ্টিবিদ ডাক্তার তাস্নিম হাসান পাপিয়া বলেন,আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ বুঝেই না, যে কোন খাবার খেলে তার সমস্যা হচ্ছে। এজন্য তারা ধীরে, ধীরে প্রায় সব ধরনের খাবার বাদ দিতে থাকে।

যেমন,

১) তেলে ভাজা খাবার,

২) দুধ বা দুগ্ধজাতীয় খাবার,

৩) টক খাবার ইত্যাদি।

যেমন, অনেকেরই ল্যাপটপ বা দুধ হজম করতে সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে দুধ বা দুগ্ধজাতীয় খাবার একেবারে বাদ না দিয়ে। ধীরে, ধীরে সেটা সহ্য ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

কারণ দুধ হজমে দরকারি লেটেস্ট নামক এক ধরনের এনজাইম শরীরে নিঃসরণ হওয়া যদি বন্ধও হয়ে যায়, তা আবার নিঃসরণ শুরু করা সম্ভব।

এজন্যই কোন খাবারে হজম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, বা সমস্যা হচ্ছে, সেটি জানাটা জরুরী। এছাড়াও আবার অনেক সময় ভিটামিনের অভাবেও হজম শক্তি দুর্বল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সুনিদৃষ্ট ব্যবস্থা নিলে, তা দূর করা যেতে পারে।

 

(খ) শারীরিক ব্যায়াম:-

সব ধরনের শারীরিক ব্যায়াম হজমশক্তিকে বাড়ায় না বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। মেটাবলিজম বা হজম শক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ মানুষের কোমরের দিকটা বা ডারফ্রেমের এর উপর থেকে শুরু করে নিচ পর্যন্ত থাকে বলে জানান পুষ্টিবিদরা।

তাদের মতে যেসব ব্যায়ামে শরীরের মাঝের অংশের কর্মকাণ্ড যত ভালো হবে। হজম প্রক্রিয়া তত সুন্দর হবে। চেয়ারে বসার ক্ষেত্রে রিভলবিং চেয়ার ব্যবহার করলে নড়াচড়া টা সহজ হয়।

হ্যাপি ক্ষেত্রে বসার ক্ষেত্রে যদি টুইস্টিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তবে শরীরের উপর একদিকে এবং নিচের অংশ আরেক দিকে থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে হজম প্রক্রিয়া ভালো হয়।

এছাড়াও কিছু ব্যায়াম শুরু করা যায় যেমন, শুয়ে 90 ডিগ্রী অ্যাঙ্গেলে দুই পা উঁচু করে রাখতে হবে এবং পাদুটি চক্রাকারে অর্থাৎ বাম থেকে ডানে এবং ডান থেকে বামে ঘোরাতে হবে।

স্পট জগিং বা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি জগিং করা যায়, দা হালকা করে লাফানো যায় এ ধরনের ব্যায়াম খুব উপকারী।

 

(গ) খাবারঃ

হজম প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে হলে খাবারের প্রকার টা বুঝতে হবে। যেমন খাবার যদি সাহস থাকে, তাহলে সেটা অবশ্যই তেল দিয়ে রান্না করতে হবে।

আবার মাংস জাতীয় কিছু খেলে সাথে যাতে লেবু থাকে, সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।এছাড়া প্রতিবার খাওয়া শেষ করে অল্প পরিমাণ লেবু পানি খেলে, সেটি হজমের কেটে খুব ভালো কাজ করে।

খাবার খাওয়া শুরু করার আগে জিববাতে অল্প একটু লবণ স্পর্শ করিয়ে খাবার খেলে, সেটিও হজমে সাহায্য করে।

এছাড়াও গাছ ব্যাকটেরিয়া যা হজম প্রক্রিয়া দ্রুততর করে সেগুলো বেশি খাওয়া যেতে পারে।

প্রাকৃতিকভাবেই ব্যাকটেরিয়া সবচেয়ে ভালো উৎস হল দই। ডাক্তার তাসলিম হাসান পাপিয়া বলেন, যাদের হজমের সমস্যা হয় তাদের জন্য  ইয়োগার থেরাপি বা দই খাওয়া উপকারী হতে পারে।

তিনি বলেন দিনের কোন একটা সময় দেড়শ থেকে দুইশ এম এল খাওয়া যেতে পারে।

 

(ঘ) পর্যাপ্ত ঘুম:-

রাত জেগে থাকাটা হজমের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি করে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পুষ্টিবিদ সারদার শারমিন আক্তার বলেন, রাতের বেলায় এমনিতেই পরিবেশে অক্সিজেন এর পরিমাণ কম থাকে। সেই সাথে রাতের বেলায় ফুসফুসে বেশিরভাগ অংশ কাজ করে না অর্থাৎ অব্যবহৃত থাকে।

যার কারণে পুরোপুরি শ্বাস নেওয়া টা সম্ভব হয় না। আর জেগে থাকলে মানুষের স্বভাব ইন্দ্রিয় কাজ করে বলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়, যা হজম প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে।

এ কারণে হজম শক্তি বাড়াতে হলে বাইকে বেশি কার্যকর করতে হলে, রাতে দ্রুত ঘুমানোটা বেশি জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

 

(ঙ) শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম:-

পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার বলেন, শারীরিক বিভিন্ন ক্রিয়া কতটা ভালো কাজ করবে তা অনেকটাই নির্ভর করে যে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেনের সরবরাহ আছে কিনা তার উপর। হজম বা শোষণ প্রক্রিয়ার জন্য অক্সিজেন বিকল্প নেই।

সেই কারণে শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করাটা জরুরী বলে মনে করেন এই পুষ্টিবিদ। তিনি বলেন নাক দিয়ে লম্বা করে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে লম্বা করে শ্বাস ছাড়লে দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ে, যাতে হজম সহজ হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments